সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় একটি ব্যক্তিগত আয়নাঘর থেকে ৫ মাস বন্দি থাকার পর নিজেদের চেষ্টায় মুক্ত হয়েছেন প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক নারী ও ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
আজ শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তারা মুক্ত হন।
অভিযোগে রয়েছে, এখানে সাধারণ মানুষকে বন্দি করে চাঁদা আদায়, কিডনি বিক্রি ও জমি লিখে নেওয়াসহ নানা অপকর্ম পরিচালনা করা হতো।
এই ঘরের সন্ধান পাওয়ার পর থেকে শত শত মানুষ সেটি দেখার জন্য ভিড় করছেন।
স্থানীয়রা জানান, ওই ভবনের মালিক জহুরুল ইসলামের ছেলে সুমন সেখ। তার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ভবনের নিচের ফ্লোরে ৩/৪টি ছোট ছোট কক্ষ তৈরী করে পল্লী চিকিৎসক আরাফাত। তিনি ও তার কিছু লোকজন গভীর রাতে এ বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন সুমন ও আরাফাতের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
আটক পল্লী চিকিৎসক নাজমুল হোসেন আরাফাত উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীকোলা গ্রামের রেজাউল করিম তালুকদারের ছেলে এবং ইনকিলাব পত্রিকার রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের পূর্ব পাইকড়া গ্রামের মৃত রস্তম আলীর ছেলে আব্দুল জুব্বার (৭৫) ও লক্ষ্মী বিষ্ণু প্রসাদ গ্রামের মনসুর আলীর স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪৮)।
বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়া শিল্পী বেগম জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে প্রায় ৬ মাস আগে তাদের অপহরণ করা হয়।
এক মাস অন্যত্র রাখা হলেও ৫ মাস যাবত তাদের এই ঘরেই বন্দি করে রাখা হয়েছিল। মাঝে মধ্যে তাদের শরীরে ইনজেকশন দেওয়া হতো।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, পল্লি চিকিৎসক আরাফাত, শরীফ মেম্বার, কামরুল, হাফিজুল ও পান্নাসহ আরো তিনজন তাদের ওই ঘরে বন্দি করে রেখেছিল। তার সাথে আব্দুল জব্বার নামে আরো একজন বন্দি ছিলেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তার ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ৮ নভেম্বর বিকেলে বাবা নিখোঁজ হন। পরে কোথাও খুঁজে না পেয়ে ১২ নভেম্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাবা ওই আয়নাঘর থেকে কৌশলে বাড়িতে ফিরে আসেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নাজমুল ইসলাম আরাফাত নামে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়া ব্যক্তিরা নিখোঁজ হওয়ার পরই থানায় পৃথক দুটি জিডি করেছিলেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বিকেলে বলেন, ওই ঘরের বন্দিদশা থেকে দুজন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।